রাজনীতির মাঠে পুঁথিবিদ্যা খুব কমই কার্যকর হয়।

Mousumi Nargis lucky | প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৫
রাজনীতির মাঠে পুঁথিবিদ্যা খুব কমই কার্যকর হয়।

ফারূক মাহমূদ

গণমাধ্যম কর্মী

রাজনীতির হিসেব ঠিক পুঁথিগত বিদ্যার মতো নয়। শ্রেণিকক্ষে দু'য়ে দু'য়ে(২+২)চার কিংবা দু'য়ে দু'য়ে(২-২) শূণ্য হলেও রাজনীতির পাঠশালায় দু'য়ে দু'য়ে(২২) বাইশ হতে পারে।

ভারতের রাজনীতির চিত্র বিশ্লেষণ করলে তার সত্যাসত্য নিরূপণ সহজে মেলানো সম্ভব।

ভারতে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ১৯৮৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে লোকসভা নির্বাচনে ক্রমান্বয়ে শক্তি বৃদ্ধি করেছে। ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে প্রধান জাতীয় দল হিসেবে, বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা এনডিএ (NDA) জোটের মাধ্যমে স

রকার গঠন করে আসছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি ২৪০টি আসন জয় করেছে।

বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত আসন বিন্যাস দেখা যাক।

২০২৪ (১৮তম লোকসভা): ২৪০টি আসন।

২০১৯ (১৭তম লোকসভা): ৩০৩টি আসন।

২০১৪ (১৬তম লোকসভা): ২৮২টি আসন।

২০০৯ (১৫তম লোকসভা): ১১৬টি আসন।

২০০৪ (১৪তম লোকসভা): ১৩৮টি আসন।

১৯৯৯ (১৩তম লোকসভা): ১৮২টি আসন।

১৯৯৮ (১২তম লোকসভা): ১৮২টি আসন।

১৯৯৬ (১১তম লোকসভা): ১৬১টি আসন।

১৯৯১ (১০ম লোকসভা): ১২০টি আসন।

১৯৮৯ (৯ম লোকসভা): ৮৫টি আসন।

১৯৮৪ (৮ম লোকসভা): ২টো আসন।

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৭২+) না পেলেও এনডিএ জোটের অংশ হিসেবে সরকার গঠন করেছে।

২০১৯ সালে বিজেপি নিজস্ব জোরে ৩০৩টি আসন পায়।

২০১৪ সালে বিজেপি ২৮২টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

১৯৯৯ সালে তারা ১৮২টি আসন পেয়ে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছিল।

এবার আসা যাক বাংলাদেশের বাস্তবতায়।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় আসন সংখ্যা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ছিল, যেমন ১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি, এবং ২০০৮ সালে ২টিতে জয়লাভ করেছিল।

পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলেও, জোটবদ্ধভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চলেছে। তবে দ্বাদশ ও তার পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে দলীয় নিবন্ধন নিয়ে আইনি পরিস্থিতির কারণে আগের মতো আসন প্রাপ্তির তালিকা নেই।

ঐতিহাসিক নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়-

১৯৯১: ১৮টি আসন (মুসলিম লীগের সাথে জোটবদ্ধভাবে ২০টি)

১৯৯৬: ৩টি আসন

২০০১: ১৭টি আসন (চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে)

২০০৮: ২টি আসন (চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে)

২০১৪-২০২৪: আইনি জটিলতা ও নির্বাচন বর্জনের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের কোনো দলীয় আসন নেই।

দেশবাসী অবগত আছেন  যে, জামায়াতে ইসলামী অতীতে বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে নির্বাচন করেছিল। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান ইতিমধ্যেই নানা জরিপ থেকে  সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।  সেটা নিশ্চিত বিজয় নাকি বিজয়ের দ্বারপ্রান্ত?

মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer