ষাট গম্বুজ মসজিদ চলো না ঘুরে আসি.....
ষাট গম্বুজ মসজিদ -- শুধু একটি মসজিদই নয়---- ঐতিহাসিক স্থাপনা, মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুলনা বিভাগে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত এই ষাট গম্বুজ মসজিদ।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে তৎকালীন বাংলার প্রখ্যাত সুফি সাধক ও শাসক খান জাহান আলী (রহ.) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিফাতাবাদ নগরীর প্রধান জামে মসজিদ ছিল। সেই সময়ে ধর্মীয় শিক্ষা, বিচার ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে মসজিদটি ব্যবহৃত হতো।
এটি "সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক মুসলিম স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে একটি" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি বাগেরহাটের প্রধান শহর থেকে প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার (৩ মাইল) দূরে অবস্থিত; এবং ঢাকা থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার (২০০ মাইল) দূরে অবস্থিত। যদিও মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ কিন্তু এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।[২]
ষাট গম্বুজ মসজিদ ইট দ্বারা নির্মিত একটি বিশাল আয়তাকার স্থাপনা। ৮১ টি স্তম্ভের ওপর ভর করে গম্বুজগুলো স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল অত্যন্ত পুরু এবং ভেতরে সুন্দর খিলান ও মেহরাব দেখা যায়। এর স্থাপত্যশৈলীতে তুর্কি ও বাংলার স্থানীয় রীতির অপূর্ব সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো ষাট গম্বুজ মসজিদসহ বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা প্রদান করে। এর ফলে মসজিদটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও পরিচিতি লাভ করে।
ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। এটি আমাদের অতীত সভ্যতা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও স্থাপত্য দক্ষতার স্মারক। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।