বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত হামলা স্থগিত রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় একদিনেই প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৮৯ ডলার বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে একপর্যায়ে এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।


একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৬৭ ডলার বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ৬৪ ডলারে।


এর ফলে টানা তিন সপ্তাহ মূল্যবৃদ্ধির পর দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।


সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হয়।


জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজ সানডে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য গণমাধ্যমকে জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, এখন প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে বলে আশাবাদ বাড়ছে।


তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও স্পষ্টতা রেখে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাওয়া ইতিবাচক সূচনা হতে পারে।


তবে হামলা বন্ধ থাকলেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।


এদিকে গত রোববার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে যায়। তবে চীনের একটি সুপারট্যাংকার ওই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।


এমএসটি মারকুই এর বিশ্লেষক সাউল কাভোনিকের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে স্বাভাবিক হবে। তাঁর ভাষায়, অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা খালি জাহাজ প্রণালিতে পাঠাতে চাইবে না।


মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer