ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা সৌদির, কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি হুথির

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১
ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা সৌদির, কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি হুথির

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। শুক্রবার রাতে হামলার পর হুথি-নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও তীব্র হবে।


হুথি-সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, হামলায় হোদেইদার টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি কামারান দ্বীপেও হামলার খবর জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামারান দ্বীপে হামলায় অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া হোদেইদা বন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বন্দরটিতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


হুথি-নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হোদেইদায় হামলা চালিয়ে সৌদি সরকার ‘প্রতিশোধের জবাবে প্রতিশোধ’ নীতিকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তাদের দাবি, এই হামলার জন্য রিয়াদকে বড় মূল্য দিতে হবে।


অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সংঘাত বৃদ্ধির জন্য হুথিদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক’। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে জোট প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।


গত বুধবার হুথিরা জানায়, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব জাহাজ দুই দিন আগে ঘোষিত নৌ অবরোধ অমান্য করেছিল।


২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এর আগে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জন্য তারা সৌদি আরবকে দায়ী করে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানায়, ইরানের একটি বিমান অনুমতি ছাড়া অবতরণ করায় বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল।


২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি ছিল দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সময়। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই স্থিতিশীলতা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।


বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরে সংঘাত আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের সামুদ্রিক কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৩০ শতাংশই এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়।


এদিকে হুথিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম দাবি করেছেন, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধ করেনি। তার ভাষ্য, তাদের নৌ অবরোধ কেবল সৌদি আরবকে লক্ষ্য করেই আরোপ করা হয়েছে এবং এটি ইয়েমেন অবরোধের জবাব হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer