বাণিজ্যিক রাজধানী ও কর্মসংস্থানের হাব গড়ার অঙ্গীকার :চট্টগ্রামে তারেক রহমান:
দীর্ঘ ২১ বছর পর চট্টগ্রামের মাটিতে ফিরে নগরীর উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি ও তাঁর বাবা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই নগরীকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণও করেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের হাব হিসেবে উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশে তারেক রহমানের বক্তব্যকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। বেলা ১টার দিকে উপচে পড়া জনতার উদ্দেশে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে পৌঁছান তারেক রহমান। পরদিন মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শহীদ হয়েছিলেন। এই চট্টগ্রামেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই শহরের সঙ্গে আমি ও আমার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ’২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়—যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত হবে।’
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এ সংকট প্রকট হয়েছে। তাই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে খাল খননের উদ্যোগ নেবে, যাতে নগরবাসী স্থায়ী সমাধান পায়।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেডে ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই বিএনপির আমলে গড়ে উঠেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে নগরীর লালদীঘি ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার চট্টগ্রামে তাঁর আগমন ও উন্নয়নভাবনার ঘোষণায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।