আরব সাগরে ৫ আরোহীসহ পাকিস্তানি কার্গো বিমান নিখোঁজ

Tanjir Khan Rony | প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫০
আরব সাগরে ৫ আরোহীসহ পাকিস্তানি কার্গো বিমান নিখোঁজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে ৫ জন ক্রু নিয়ে পাকিস্তানের করাচি আসার পথে মাঝ-আকাশেই রাডার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়েছে একটি কার্গো বিমান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি বুধবার (৮ জুলাই) এক জরুরি বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক খবরটি নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজ বিমানটি পাকিস্তানের বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘কে-টু এয়ারওয়েজ’-এর একটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ কার্গো এয়ারক্রাফট বলে শনাক্ত করা হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে করাচি এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে বিমানটির সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তখন করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর থাকা অবস্থায় বিমানের ক্যাপ্টেন জানান, তাদের গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং তারা পথ হারিয়েছেন।


কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে বিমানটিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া শুরু হলেও ঠিক তার তিন মিনিট পর, অর্থাৎ রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা যায়। বিমানটি তার নির্ধারিত উচ্চতা (৩৫ হাজার ফুট) থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিচে নামতে শুরু করে এবং তীব্রভাবে দিক পরিবর্তন করে। এর ঠিক পরপরই বিমানটির সাথে সমস্ত রেডিও যোগাযোগ ও রাডার সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


গ্লোবাল ফ্লাইট ট্র্যাকিং পোর্টাল ‘ফ্লাইট রাডার ২৪’-এর প্রাথমিক এডিএস-বি ডাটা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার শেষ মুহূর্তে কার্গো বিমানটি ভয়াবহ ‘স্টল’ (নিয়ন্ত্রণহীন অবশ অবস্থা)-এর শিকার হয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১,১০০ ফুট উঁচুতে থাকা অবস্থায় এর গতি রেকর্ড করা হয়েছিল প্রতি মিনিটে মাইনাস ২২,৪০০ ফুট পতন, যা এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এটি সরাসরি সমুদ্রে আছড়ে পড়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।


ঘটনার পরপরই পাকিস্তানের রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারকে সক্রিয় করা হয়েছে। বিমান ও ৫ জন ক্রুর খোঁজে আরব সাগরে বড় ধরনের যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।


পাকিস্তান ডিফেন্স সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’-সহ বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী নৌযানকে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে দ্রুত পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে মাঝ-আকাশ থেকে অনুসন্ধানের জন্য বিমানবাহিনীর ‘সাব ২০০০ এরিআই’ নজরদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর ‘এটিআর-৭২’ যুদ্ধবিমান অনবরত সাগরের বুকে চক্কর দিচ্ছে। নিখোঁজ ৫ জন ক্রুর মধ্যে একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট, একজন লোডমাস্টার এবং দুজন ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নিখোঁজ বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ বা ক্রুদের হদিস মেলেনি।

মন্তব্য করুন

Login to comment

আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

Global Before Footer