আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলা মিয়ানমারের দাবির তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের
Mousumi Nargis lucky |
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৪
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ ও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উপস্থাপনের মিয়ানমারের সাম্প্রতিক অপচেষ্টার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের বানোয়াট আখ্যান রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতা ও জাতিগত নিধনকে আড়াল করার নির্লজ্জ চেষ্টা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস ও রাষ্ট্রহীন করার লক্ষ্যেই তাদের ‘বাঙালি’ বলা হচ্ছে, যাতে ২০১৬-১৭ সালের পাশবিক নিপীড়ন থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানো যায়। অথচ ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে মিয়ানমার নিজেই রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার বৈধ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
বাংলাদেশ আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের দাবি—মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫ লাখ মানুষ রাখাইনে ঢুকেছিল—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৎকালীন ১৭ লাখ জনসংখ্যার রাখাইনে এত মানুষের অনুপ্রবেশ অসম্ভব এবং এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও তারা দেখাতে পারেনি। মূলত দায় এড়াতে ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের মিথ্যাচার আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার অপচেষ্টা এবং ২০১৭-১৮ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ মিয়ানমার ও রাখাইনের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী, যারা কয়েক শতাব্দী ধরে আরাকান (বর্তমান রাখাইন) অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক ও নথিভুক্ত প্রমাণে স্পষ্ট, ১৯৪২ সালের নাগরিকত্ব আইনের আগ পর্যন্ত তারা বার্মার রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ ছিল।